August 22, 2008

Hinduism

ধর্ম একটি সত্যের পথ এবং একজন মানুষকে একটি পথে ধরে রাখার পথ। এই উক্তি হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থেও আছে।

পৃথিবীর প্রধান নিয়ম


হিন্দুধর্মে ধর্মকে সৈরজগৎতের অথবা বিশ্বব্রহ্মান্ডের নিয়ম হিসেবে ধরা হয়। এটা দিয়ে একজন ব্যক্তি নিজেকে খুশি এবং আনন্দিত রাখতে পারে এবং এটা ব্যবহার করে সে নিজেকে কষ্ট এবং দুঃখের থেকে ফিরিয়ে আনতে পারে। ধর্ম জীবনের প্রধান নীয়ম যেটাতে ঐশ্বরিক কিছু থাকলেও থাকতে পারে। হিন্দুরা ধর্মকে জীবনের স্থাপনা হিসেবে দেখে থাকে। তারা মনে করে এটাই তাদেরকে ধরে রেখেছে এই পৃথিবীতে এবং পুরো সংসার, সৌরজগৎকে ধরে রেখেছে এই ধর্ম। ধর্ম একটি নিয়ম জীবনে থাকার এবং এটা বাদে কিছুই থাকত না।

ধর্মিয় গ্রন্থ অনুযায়ী


ধর্ম দিয়ে গুরুকে বুঝায় পুরানো হিন্দু ধর্মগ্রন্থে। তুলশীদাস, রামচারিতমানাশের লেখক বলেছেন- ধর্মের প্রধান মুল শিকড় হচ্ছে করুণা অথবা সমবেদনা। বুদ্ধ এই মত নিয়ে আরো বলেছেন তার ধামপদ বইয়ে- অথর্ববেদে ধর্ম চিহ্নিত হয়েছে। প্রিত্থিভিম ধর্মান ধ্রিতাম এবং তিনি এই কথা দিয়ে এই বলেছেন যে এই পৃথিবী ধর্মের। মহাভারতে, পান্ডবরা ধর্ম এবং কৌরবরা অধর্ম বুঝিয়েছে।

ভালো ধর্ম = ভালো কর্ম


হিন্দুধর্ম বিশ্বাস করে পূনজন্মতে, এবং তাদের এই জন্ম হয় তাদের আগের জন্মের কর্মের ফল হিসেবে। তারা কি কাজ করে (মনে কি ভাবে অথবা কি কাজ করে) সেটা উপরে। ভালো কর্ম পাওয়ার জন্য ধর্মের পথে চলতে হয়। সেটাই ঠিক, সত্য। সেটা মানে হচ্ছে যেটা নিজের জন্য, পরিবারের জন্য, জাতির জন্য অথবা পুরো বিশ্বের জন্য ঠিক, সেটা করা।

আপনি কিভাবে একজন ধার্মিক হতে পারবেন?


কোনোকিছু, যেটা মানবজাতিকে ঈশ্বরের কাছে নিয়ে যেতে পারে, সেটাই ধর্ম এবং যেই কাজ মানবদের ঈশ্বরের থেকে দূরে রাখে, সেটাই অধর্ম। ভগবত পুরান অনুযায়ী, সত্য জীবন চলানোতে আছে চারটি পথ- তাপ (কঠোরতা), সচ্ছ (শুদ্ধতা), দয়া (করুণা) এবং সত্য (সত্যতা); এবং অধার্মিক অথবা যারা অধর্মের পথে চলে, তারা এই তিন পছন্দ করে থাকে- অহংকার (গৌরবতা), সংঘ (চুক্তি), এবং মদ্য। ধর্মের প্রধান শিকড় থাকে কাজে, শক্তিতে এবং ধর্মিয় মতে। সেটা আরো থাকে বিশ্বাসের নিজেস্বতায় এবং বলের ক্ষমতায়।

ধর্মের ১০ নিয়ম


মনুস্কৃতি লিখেছিলেন মনু, একজন ঋষি এবং সেটায় ১০টি নিয়মের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে- ধৈর্য, ক্ষমা, সততা, ভক্তি, পবিত্রতা, নিজের ইন্দ্রিয়দের নিজের মাঝে আনা, কারন, জ্ঞান অথবা বিদ্যা, সত্য এবং ক্রোধ থেকে দূরে থাকা। মনু আরো লিখেছিলেন যে যার ভেতর হিংস্রতা নেই, সত্য আছে, কামনা নেই, বিশুদ্ধতা আছে শরীর এবং মনে, নিজের ইদ্রিয়দের কাছে রাখেছে, সে হচ্ছে প্রকৃত ধার্মিক। সেই জন্য ধার্মিক হতে হলে শুধু নিজেকে না, পুরো পরিবেশটাকেই সত্যতে আনতে হবে।laws govern not only the individual but all in society.

ধর্মের উদ্দেশ্য


ধর্মের উদ্দেশ্য এই না যে এটা শুধু আত্মা এবং বিশ্বকে সেটার যুক্ত করা। এটার পাশাপাশি ধর্ম একটা নিয়ম যেখানে একটি শান্তি এবং আনন্দের জীবন খুঁজে পাওয়া যায়। ঋষি কান্ড ধর্ম নিয়ে বলেছেন আনন্দ এবং পরম শান্তির জন্য ধর্ম। হিন্দু ধর্মে বলা হয়েছে এই পৃথিবীতে এবং স্বর্গতে, সব যায়গায়ই ধর্ম আছে। যেমন পৃথিবীতে বিয়ে, পরিবারকে পালন করা এবং এই সব ধর্মের মধ্যেই পড়ে। ধর্ম থেকে আপনি শান্তি, আনন্দ এবং শক্তি পাবেন যেটা দিয়ে আপনি জীবনটাকে নিয়মের মধ্যে আনতে পারবেন।

No comments:

Post a Comment