May 22, 2008

Om

"The goal which all the Vedas declare, which all austerities aim at, and which men desire when they lead the life of continence … is Om. This syllable Om is indeed Brahman. Whosoever knows this syllable obtains all that he desires. This is the best support; this is the highest support. Whosoever knows this support is adored in the world of Brahma."
~ Katha Upanishad I

ওঁ সর্বশ্রেষ্ঠ শক্তি সনাতন ধর্মে। এই চিহ্ন দিয়ে বোঝানো হয় ব্রহ্মকে। এই ব্রহ্ম একটি নৈব্যাক্তিক, চিরন্তর সনাতন ধর্মের। এটি সর্ব ক্ষমতা সম্পন্ন শক্তি। এটি সব ধরনের সুস্পষ্ট অস্তিতের প্রধান। ব্রহ্ম কোনো দিনও বলা যায় না অথবা বোঝা যায় না। তাই এই চিহ্ন দিয়ে সবকিছু বোঝান হয়। এটি একটি অজানা বস্তু যেটা কেউ প্রকাশ করতে পারেনি। এই এটার ব্যবহারের সময় এই চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। এটি চিহ্নিত করে অজানাকে। এটি অস্পষ্ট (নির্গুন) এবং সুস্পষ্ট (সগুন), দুটাকেই বুঝায়। এই দুটাই ঈশ্বরের কাছে আছে। এটা আরেক নাম হচ্ছে প্রনব অথবা এমন একটা যেটা আমাদের প্রাণে এবং নিশ্বাসে আছে।

এই চিহ্ন যদিও হিন্দু ধর্মের, তবুও এটা অনেক সময় কাজে আসে। এটা নিয়মিত কাজেও আসে। হিন্দুরা কাজ শুরু করে ওঁ-এর নাম দিয়ে। এটা হিন্দুদের চিঠির উপরে লেখা হয়, পরিক্ষার খাতার উপরে লেখা হয়। এই চিহ্নযুক্ত কাপড় পড়ে হিন্দুরা। এই চিহ্ন হিন্ধুদের মন্দিরে অথবা পরিবারের ঠাকুর ঘরের উপরে থাকে।

এটা সত্যি মজার যে একটা জন্ম নেয়া শিশু জন্ম নিয়েই পবিত্র চিহ্ন দেখায়। এবং জন্ম নেবার পরে তার শরীরে ঐশ্বরিক চিহ্ন ওঁ দিয়ে রাখে। সেই শিশুর মুখে মধু দিয়ে লেখা হয় ওঁ। এবং একেবার জন্মের সময়ে এই চিহ্ন যুক্ত হয় হিন্দুদের সাথে এবং এই চিহ্ন সব সময় থাকে সেই মানুষের সাথে। এটি চিহ্নিত করে ভক্তির। এটি এখন হিন্দুরা ট্যাটু এবং আর্ট হিসেবে।

মান্দুকায় উপনিষদ অনুযায়ী, ওঁ নিয়ে লেখা আছে- ওঁ হচ্ছে একটি চিরন্তর চিহ্ন যেটাতে একমাত্র উন্নয়ন থাকে। এটার আদি, বর্তমান এবং ভবিষ্যত সব একই শব্দতে থাকে, এবং যেগুলো এই তিনটার বাহিরে থাকে, সেগুলোও এটা নিয়েই থাকে।

ওঁ কোনো শব্দ নয়। এটা বরংচ একটা কন্ঠশ্বর, গানের মত, যেটা জাতি, সময়, সংস্কৃতি এবং এক একটা প্রানীভেদ মিল করে। এটা তিনটা সংস্কৃত শব্দ দিয়ে তৈরী হয়েছে- আআ, আউ এবং মা যেগুলো একসাথে মিলিয়ে হয় ওঁ। এটা বিশ্বাস করা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে প্রথম শব্দ। এবং এটার থেকেই অন্য সবগুলো তৈরী হয়েছে। এটা নিজে একটা মন্ত্র নিজেই। এটা যদি ঠিক করে বলা হয় ( ঠিক উচ্চারন করা হয়) তাহলে এটা শরীরে একটা শান্তি আনে এবং নিজের আত্মাকে একজনের মধ্যে আনে।

এটার মধ্যে আছে শান্তি, মিল এবং সুখকে। এটি গভির নীতিশাস্ত্রের একটা শব্দ। এই ধন্নির শব্দ উচ্চারন করে আপনি সর্বচ্চ শব্দ করতে পারেন অক্ষরের যদি কেউ চিন্তা করে ব্রহ্মের এবং নিজের শরীরকে ছেরে দেয়। সে সর্বচ্চ হালে চলে যাবে যেখানে সে চলন্তহীন হয়ে যায় পরকালে। এই কথা শ্রীমদ্ভগবত গীতাতেও লেখা আছে।

ওঁ নিয়ে দুটা দিক দেখায়। এক দিকে এটা মনকে প্রকাশ করা যায় না, এই প্রকার জিনিসের প্রতি মনেকে নিযুক্ত করে। আরেক দিকে এটা চিরন্তরকে বোধ্যগম্য এবং ভাষায় প্রকাশ করার মত তৈরী করে। এটা সকল ইচ্ছা এবং সকল মনের চাওয়াকে আবৃত করে। এটা এমন একটা জিনিস যেটা এখন পর্যন্ত বলা যায়নি যে এটা কি।

ধ্যানের সময়, ওঁ দিয়ে আমরা নিজেদের মধ্যে একটা উচ্চারন তৈরী করতে পারি যেটা শান্তি বয়ে আনে আমাদের চিন্তায়। এবং এই শব্দ উচ্চারন করে আমরা পৃথিবীর জন্য ভাবতে পারি। প্রতিবার বলার পরে যেই সময়টা থামা হয়, সেটার কারনে আরো ভালো করে অনুভব করা যায়। তখন চিন্তা শব্দ এবং নিশব্দের মধ্যে থাকে যতক্ষন পর্যন্ত এই মন্ত্র যপ করা হয়। সেই নিশব্দের মধ্যে, ওঁ অন্যান্য চিন্তাকে দূর করে দেয়। এই সময়টাকেই বলা হয় ঘুমের অবস্থা যেই সময় মন এবং বুদ্ধি একসাথে মিলে যায় ঈশ্বরের সাথে। এবং এই সময় আপনি কিছুই বুঝতে পারবেন না। এই মুহুর্তটাতেই খারাপ মনভাব আপনার মন থেকে দূর হয়ে যায়। এটাই ওঁ-এর শক্তি।

No comments:

Post a Comment