January 14, 2010

হায়রে কবিগুরু, তুমিও রেহাই পেলে না

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, আমাদের কবিগুরু, বিশ্বকবি সকল বাঙ্গালীদের, তিনিও রেহাই পেলেন না। তোমাকে নিয়ে তোলপাড় হচ্ছে, তোলপাড় যেটি কোনোদিনও কাম্য নয়। জাতীয় সংগীতকে পরিবর্তন করা নিয়ে, যেটি আমার মাথায় কিছুতেই ঢুকছে না কারণ কি। যদিও তোলপাড়ের অনেক পরেই লেখাটি লিখলাম্, বিষয়টা সেই গন্ড-মূর্খদের জন্যই যারা মনে করে জাতীয় সংগীত পরিবর্তন করা উচিৎ। যুক্তিগুলো পড়ে অনেক মজার মজার বিষয় জানতে পারলাম, কিভাবে অনেক জনপ্রিয়, প্রধান-প্রধান দেশের জাতীয় সংগীত পরিবর্তন হয়েছে বহুবার। বাহ, তাহলে কি আমাদেরও করতে হবে?

অন্যান্য দেশ এনেছে, আমাদের দেশ না কেন?

আমার মতে না, কারণ কথার কথায় হয়ে যাবে "যদি কেউ দশ তালা দালান থেকে লাফ দেয়, তাহলে কি তুমিও লাফ দিবে?" অক্ষরিক অর্থে হচ্ছে, মনে করুন এখন বহু দেশ করেছে যেমন রাশিয়া তাদের জাতীয় সংগীত পরিবর্তন করেছে। রাশিয়া আমরা জানি সাম্যবাদের কবলে ছিলো, তাই তাদের পদপরিবর্তন কিছুদিন পরপরেই হয়েছিলো এবং সেই জন্যই জাতীয় সংগীতেরও পরিবর্তন তাদের কাছে জরুরী ছিলো। কিন্তু আমাদের দেশ, বাংলাদেশ কি গণতান্ত্রীক থেকে সাম্যবাদ বা রাজাতন্ত্রতে চলে গিয়েছে যে জাতীয় সংগীত পরিবর্তন করতে লাগবে? যতটুকু জানি এখনো বাংলাদেশ সেই গণতান্ত্রীক দেশই আছে, এবং সংবিধানের কথাগুলো এখনো পরিবর্তন হয়নি যাতে দেশটিকে সাম্যবাদী হিসেবে ঘোষনা করা যায়।

রবীন্দ্রনাথ হিন্দু গন্ডির থেকে বাহিরে আসতে পারেননি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলে হিন্দু গন্ডির থেকে বাহির হয়ে আসতে পারেননি, তাই তিনি নজরুল ইসলামের মত ভিন্ন ধর্মকে নিয়ে বেশি লিখতে পারেননি। যেমন নজরুল ইসলাম শ্যামা সঙ্গীত লিখেছেন, সেই প্রকারের কিছুই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ লিখতে পারেননি। এটার মানে কি বুঝতে হবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা ছিলো না? কিন্তু তিনি কি করে লিখবেন সেটাই আমার প্রশ্ন। ধরুন আপনি সারা জীবন ঢাকায় পরে আছেন আর ঢাকার সকল সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, তাহলে কি আপনি অন্য সমস্যার কথা নিয়ে লিখবেন? সাহিত্য এক প্রকারের শিল্প যেটি দিয়ে আপনি নিজের মত প্রকাশ করতে পারেন, আর সেটিই এক এক কবি-সাহিত্যিকের স্বপ্ন থাকে। এখন একজন মুসলীম যিনি গুজরাটে থাকত দাঙ্গা-হাঙ্গামার সময়, তিনি কি স্পেসক্রাফট নিয়ে লিখবেন? যে যেটি দেখেছে, যে যেটি শুনেছে আর যে যেটির কারণে এফেক্টেড হয়েছে, তিনি তো সেটিকে নিয়েই লিখবেন নাকি?

কিছু লেখার জন্য মন্তব্য

ত্রিভুজ ভাইয়ের এই পোস্টের থেকে এই লেখার আবির্ভাব, আর সেটির জন্য কিছু মন্তব্য আছে। তিনি একটি কোট করেছেন এই লিখেঃ
    রবীন্দ্রনাথের ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি রচনার প্রেক্ষাপট এবং উপলক্ষ নিয়ে যারা অবগত আছেন তারা জানেন যে, এই গানটি লেখা হয়েছিল, বাংলাদেশের স্বাধীন অস্তিত্বের বিরুদ্ধে। ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জনের নেতৃত্বে বঙ্গভঙ্গ করা হলে বাংলার পিছিয়ে পড়া মানুষজন অগ্রসর হতে থাকে। কিন্তু হিন্দুরা তা মেনে নিতে পারে নি। ফলে বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে তারা সন্ত্রাসী আন্দোলন শুরু করে। এ আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারীদের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন অন্যতম। তিনি এসময় অখন্ড ভারতের পক্ষে বেশ কিছু গান লিখেন। আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি’ তেমনি একটি গান। ১৯০৭ সালের ৭ আগস্ট কলকাতার বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের এক সমাবেশে এই গান প্রথম গাওয়া হয়। (উইকিপিডিয়া)
    ত্রিভুজ ভাই এটাও বলেছেন যে তিনি এটিকে বাংলা উইকিপিডিয়ার থেকে পেয়েছেন (এটি হচ্ছে বাংলা উইকিপিয়ার সেই লেখাটা)। তাই আমি গেলাম সেই সাইটে এবং খুঁজতে শুরু করলাম সেই কথাগুলো। সত্যি কথা বলতে কি, যেই দিন আমি এই পোস্ট লিখছিলাম, সেদিন আমি এই কথা পেলামই না লেখাটাতে। বলছি না যে ত্রিভুজ ভাই মিথ্যে কথা কোট করেছেন কিন্তু এটা পেলাম না আর বিশ্বাসযোগ্যও কোনো লিংক হলো না কারণ যে কেউ উইকিপিডিয়াতে লিখতে পারে। এখন যখন পেলামই না, তখন এমনও হতে পারে কেউ (কোনো রবীন্দ্রনাথ বিরোধী) এই কথা নিজে বানিয়ে লিখে রেখেছিলেন এবং উইকিপিডিয়ার মডারেটররা কিছুদিন পরেই সেটিকে মুছে দিয়েছেন। এটি হতেও পারে আবার নাও হতে পারে, কিন্তু এটাই বলতে হবে যেমন আমাদের টিচাররা বলে, কোনোদিনও উইকিপিডিয়ার থেকে তথ্য নিবে না কারণ এটি যে কেউ এডিট করতে পারে।

    একটি মন্তব্য পড়লাম এই পোস্টে, ভালোই লাগলো কথাটি শুনে। মন্তব্যটি হলোঃ
    আশরাফ রহমান বলেছেন: না বুঝার কি হলো! যা সত্য তাই লিখেছি। নজরুল যে রবীন্দ্রনাথের চেয়ে উদার ছিলেন তা কেউ অস্বীকার করবে না। এ লেখাতে তাই ফুটে উঠেছে।
    এ কথার সাথে আমি একমত কারণ আসলেই তিনি একজন সেকুলার ব্যাক্তি ছিলেন যেটি এখনের দিনে বা সেকালে খুঁজে পাওয়া অনেক অসাধ্য ব্যপার ছিলো। যখন এই কমেন্ট আসলো সেটি ছিলো এখন যদি নজরুল ইসলামের সামনে গিয়ে আপনারা এই লেখটি পড়তেন, তাহলে তিনি কি বলতেন? তাদের উত্তর ছিলো কিছু বই/প্রবন্ধ/রচনায় নজরুল তার ভাব প্রকাশ করেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতি এবং সেটি ছিলো যে তিনি রবীন্দ্রনাথকে সহ্য করতে পারতে না (এটি বলে এই প্রবন্ধতে ফুটে উঠেছে "বড়র পিরীতি বালির বাঁধ")। এই প্রকার ভালো কমেন্ট দু'জন লেখককেই সমানভাবে দেখেছেঃ
    এ বিষয়ে এতক্ষণ পড়াশুনা করলাম। আপনার তথ্য সঠিক। গানটা লেখা হয়েছিল ১৯১১ সালের ডিসেম্বরে ভারতে সম্রাট ৫ম জর্জের আগমন উপলক্ষে। সম্রাট আগমনের দ্বিতীয় দিনে রবি ঠাকুর নিজে কনগ্রেসে গানটি গেয়ে শোনান।
    তবে সাহিত্য বিবেচনায় রবি ঠাকুরকে ব্যক্তিগত ভেদাভেদের ঊদ্ধে রাখাটাই সমিচীন। আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি রবি ঠাকুরের লেখা না পড়লে কেউ পূর্ণ বাঙালি হয়ে ওঠে না। একই কথা বলবো নজরুলের ক্ষেত্রেও। এই দু'জনের তুলনাটা আমার কাছে খুব অচ্ছুৎ মনে হয়। তুলনা রেখে শুধু রবি ঠাকুরের ব্রিটিশ প্রেম নিয়ে লিখলেই মনে হয় ভাল হতো।
    সকলকে একই মতে দেখাই ভালো আর মনে রাখতেই হবে যে আমরা এই বিভেদ তৈরী করছি, এবং সেটাই এই মন্তব্যতেও ফুটে উঠেছে।

    No comments:

    Post a Comment