August 22, 2010

যোগে কি শক্তি অর্পিত?

পতঞ্জলি হচ্ছে ভারতের আদি-যোগ প্রতিষ্ঠাতা, যিনি বলেন ভগবানের কাছে আবার ফিরে যাওয়াই আমাদের লক্ষ্য। ডুয়ালিস্টিকরা মনে করেন মানুষ ভগবান থেকে এসেছে, মানুষ হিসেবে বাস করে, এবং পরে আবার ভগবানের কাছে ফিরে যায়। মনিইষ্টরা মনে করেন মানুষই ভগবান এবং তারা ভগবানের কাছে ফিরে যায়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই যোগ করে কি শক্তি আমরা পেতে পারি?

স্বামী বিবেকানন্দ এই বিষয়ে তার The Complete Works of Vivekananda-তে তার উত্তর দিয়েছে, অতি সংক্ষেপে এবং আমাদের বোধগম্য করে। ধরণ হচ্ছে কোনো একটি বস্তুর প্রতি একাগ্র চিত্তে মন বসানো, যার থেকে আমরা ধ্যানে অবতরণ করি, এবং সেখান থেকে সব ছেড়ে দেবার শক্তি পেলে আমরা সমাধিতে উৎপন্ন হতে পারি। এই ধ্যান, সমাধি, ও ধরণ যখন একটি বস্তুর উপর আমরা করে থাকি, তাকে বলা হয় সংযম। যখন আমাদের চিত্ত ধ্যানে মগ্ন, বা সমাধিতে, তখন থেকে আমরা সময় বলতে আর কিছু অনুভব করি না। সেই সময় থেকেই আমরা যোগের শক্তি কি কি অনুভব করতে শুরু করি।

যখন আমরা সময়ের অধিষ্ঠানে থাকি না, তখন আমাদের এই ক্ষমতা আসে যার মাধ্যমে আমরা ভূত ও ভবিষ্যত দেখতে পারি, এবং এমন নয় যে শুধু আমাদের নিজেদের কিন্তু পুরো বিশ্বের। অতএব, তারা যদি তাদের মগ্নতাকে জোড়ালো করে, তাহলে তারা দেখতে পারে তাদের পূর্ব জন্মকে অনুভব করতে পারে, সেটার বিষয়ে জানতে পারে। শুধু তাই নয়, একজন যোগী সেই ক্ষমতার বশে নিজের দেহ থেকে আত্মাকে সরিয়ে নিতে পারে, যার ফলে সে অন্য সকলের কাছে অদৃশ্য হয়ে যায়। সে জানতে পারে তার মৃত্যুর সময়, এবং মৃত্যুর সময় জানার ফলে সে তার পরবর্তী জন্মকে আরো জোরালো ভাবে দেখতে সক্ষম হয়। যোগী শক্তি পায় যেটা অসীম, সে পুরো বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের জ্ঞান পায়, সে তারা-নক্ষত্রের গতি বিষয়ক জ্ঞান পায়, সে শরীর বিষয়ক জ্ঞান পায়, তার আর ক্ষুধা থাকে না, এবং তার নার্ভগুলো একস্থানে মনোনিবেশ করে।

একজন ব্যাক্তি প্রতিভা দ্বারা এই ক্ষমতার অধিপতি হতে পারেন, কারণ সে তার আগের জন্ম থেকেই এই বিষয়ে জ্ঞানী। সে এই ক্ষমতার অংশীদার হতে পারে যখন কোনো না কোনোভাবে তাকে তার এই পূর্বজ্ঞান মনে করিয়ে দেয়া হয়। সেই যোগীর কাছে আসে অলৌকিক শক্তি যার মাধ্যমে সে তার পাঁচ ইন্দ্রিয়কে অতি অবশ্যক ব্যবহার করতে পারে এবং তার চাহিদা মত দেখতে, শুনতে ও বুঝতে পারে। সে তার চিত্তের মধ্যে বাঁধ খুলে দিয়ে তার দেহ ছেড়ে অন্য দেহের মধ্যে প্রবেশ করতে পারে। সে তার উদানা (আমাদের শরীরের উপরের অংশের নার্ভগুলো)-কে সে চালাতে পারে নিজের ইচ্ছা মত, যাতে সে নিজেকে হালকা করে তুলে। এই হালকা হবার কারণে যোগী জলে ডুবে না, কাঁটাতে হাঁটলেও বা আগুনে দাঁড়ালেও কিছু তার ক্ষতি করতে পারে না। এই থেকে সে আকাশের মত হালকা হয়ে যায়, এবং সে যেখানে ইচ্ছা সেখানেই যেতে পারে।

তার ভেতরকার শক্তির ফলে সে এটা বুঝতে পারে যে সকল কিছুই জ্ঞানে অসীম, সে সকল পদার্থের উপর তার ক্ষমতা প্রয়োগ করার শক্তি আনে, এবং সেই ইথারের ফলে তার শরীর ধ্বংসের বাহিরে চলে যায়, (যদি যোগী নিজে মৃত্যু চায়, তাহলে তার মৃত্যু সম্ভব) তার কোনো অসুখ হয় না, তার মৃত্যু থাকে না এবং কষ্ট থাকে না। যদি যোগী এই সকল ক্ষমতাকে ছেড়ে দেয়, তাহলে তার মধ্যে কোনো ক্ষতির অংশ থাকে না, এবং কৈবল্য লাভ করে। কৈবল্য হচ্ছে যখন যোগী একা ও স্বাধীন। সে সেই শক্তিগুলোকেও ছেড়ে দেয়, এবং সেই যোগী সকল থেকে ছাড় পায়, স্বাধীন হয়ে যায়। সেই সময় সেই যোগীর আত্মাকে পূর্ণ বলা হয়, বা যখন ভগবান আমরা নিজেরাই হয়ে যাই, কারণ মনে রাখতে হবে লিও টলস্টয়ের একটি বইয়ের না, "The Kingdom of God is Within You."

No comments:

Post a Comment